ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ৮ নং ওয়ার্ডের ইসপিঞ্জাপুর গ্রামে ঝিনাই নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মো. ফজলু মিয়া রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতের আঁধারে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন। এর ফলে নদীভাঙনের তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছে কৃষকের আবাদি জমি, রাস্তাঘাট এবং বসতবাড়ি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসপিঞ্জাপুর গ্রামের বর গেদার ছেলে মো. ফজলু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাই নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, নদী সংলগ্ন এলাকায় তার ১২ শতাংশ আবাদি জমি রয়েছে, যেখানে বর্তমানে ফসল রয়েছে। কিন্তু রাতের বেলায় অনবরত ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে তার এই ফসলি জমিটি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জমিটি হারিয়ে সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ার চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন তিনি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফজলু মিয়া নিজেকে স্থানীয় বিএনপির দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। অবৈধ এই বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে গেলে ফজলু ও তার লোকজন গ্রামবাসীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এমনকি প্রতিবাদকারীদের অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি ও নদীর ক্ষতি করে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু অভিযুক্তরা আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, অতি দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকাবাসীর যাতায়াতের রাস্তাসহ আরও অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি অচিরেই ঝিনাই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

এ অবস্থায় অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরীহ গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।