বিশেষ প্রতিবেদন | টাঙ্গাইল

রাজনীতি কি এখন শুধুই 'সুসময়ের কোকিলদের' দখলে? নাকি আদর্শ আর দীর্ঘ সংগ্রামের কোনো মূল্য আছে? টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি অজিত দেব-এর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে আজ এই প্রশ্নটি প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে। যোগ্যতাকে কি আজ ধর্মের তুলাদণ্ডে মাপা হচ্ছে, নাকি ত্যাগের মূল্যায়ন করতে আমরা ভুলে গেছি?

১. রাজপথ থেকে উঠে আসা এক লড়াকু নেতৃত্ব

অজিত দেব আজকের কোনো 'বসন্তের কোকিল' নন। তার রাজনীতির হাতেখড়ি সেই কলেজ জীবন থেকে। যখন পদ-পদবির চেয়ে আদর্শ বড় ছিল এবং রাজপথে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে সংগঠন গড়ে তুলতে হতো, তখন থেকেই তিনি মাঠের সক্রিয় সৈনিক। দশকের পর দশক ধরে নিজের যৌবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের সেবায়। আজ যারা ক্ষমতার দাপট দেখান, তাদের অনেকেরই রাজনীতির হাতেখড়ি হওয়ার আগে থেকে অজিত দেব জেল-জুলুম সহ্য করে রাজনীতি করেছেন।

২. ৫ই আগস্টের অগ্নিপরীক্ষা: অনন্য এক নিষ্কলঙ্ক চরিত্র

বিগত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যখন চারিদিকে অস্থিরতা আর দখলবাজির মহোৎসব চলেছে, তখন অজিত দেব ছিলেন এক অনন্য ব্যতিক্রম। উত্তাল সেই সময়েও তার এলাকার কোনো সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি এক টাকার চাঁদাবাজি বা অনৈতিক সুবিধা নেননি। যেখানে অনেকেই রাতারাতি ভোল বদলে আখের গুছিয়েছে, সেখানে তিনি তার পারিবারিক শিক্ষা ও বংশীয় আভিজাত্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন—পদ থাকুক বা না থাকুক, একজন সত্যিকারের আদর্শবাদী মানুষের চরিত্র কোনোদিন বিক্রি হয় না।

৩. ত্যাগের উত্তরাধিকার: যার পরিবার অকাতরে দান করেছে

রাজনীতিতে অনেকেই আসে নিতে, কিন্তু অজিত দেবের পরিবার এসেছে অকাতরে বিলিয়ে দিতে। আজকের ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেখানে সগৌরবে দাঁড়িয়ে, সেই মূল্যবান জমিটি অজিত দেবের পরিবারেরই দান করা। যে পরিবারের দানে এলাকার হাজার হাজার শিশু শিক্ষিত হচ্ছে, আজ সেই পরিবারের সন্তানকে কেন 'অবহেলার' বিষ পান করতে হচ্ছে? এটি কি চরম অকৃতজ্ঞতা নয়?

৪. অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাত: যোগ্যতাই কি এখন অযোগ্যতা?

অজিত দেব একজন দক্ষ সংগঠক, একজন সাদা মনের মানুষ এবং তৃণমূলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কাণ্ডারি। অথচ আজ তাকে কোণঠাসা করার এক কুৎসিত খেলা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই অবমূল্যায়নের কারণ কি শুধুই তার ধর্মীয় পরিচয়? যদি তাই হয়, তবে এটি আমাদের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনার গালে এক চরম চপেটাঘাত। যোগ্যতাকে ধর্মের তুলাদণ্ডে মাপা কেবল অন্যায় নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক সমাজের নৈতিক পরাজয়।

৫. পারিবারিক শিক্ষা বনাম সস্তা 'স্মার্টনেস'

আজকাল অনেকেই সস্তা 'ওভার স্মার্টনেস' দেখিয়ে নিজেদের বড় নেতা ভাবেন, কিন্তু তাদের মধ্যে নূন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ নেই। অজিত দেবের মতো একজন সজ্জন ব্যক্তিকে সম্মান দিতে না পারা আমাদের সামগ্রিক রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা প্রকাশ করে। যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের হারিয়ে দেওয়া মানে সমাজ থেকে নীতি-নৈতিকতাকেই চিরতরে নির্বাসনে দেওয়া।


উপসংহার: "ভদ্রতা ও বংশীয় মর্যাদা কোনো বাজার থেকে কেনা যায় না, এটি অর্জন করতে হয় ত্যাগের বিনিময়ে। আর অজিত দেব সেই ত্যাগেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।"

আমাদের দাবি: যোগ্যতাকে সম্মান দিতে শিখুন। ধোপাখালীর মাটির সন্তান, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ অজিত দেবকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান ফিরিয়ে দিন। মনে রাখবেন, যারা ত্যাগের বিনিময়ে সমাজ গড়েছেন, তাদের অশ্রদ্ধা করলে ইতিহাস কোনোদিন ক্ষমা করবে না।