জাহাঙ্গীর আলম 

বিশেষ প্রতিনিধি সময়ের সাথে প্রতিদিন 

পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে কর্মীসভায় আবারও বাংলাদেশ ইস্যুতে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, মমতার কারণে অনুপ্রবেশ হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের মমতার ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া হবে এবং এই কাজ ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে অমিত শাহ বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ আজ বাংলাদেশে চলে যেত।বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় জনসংঘ স্থাপন করেন। এই বাংলাই ছিল তার মাটি। তিনি পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করেছিলেন, নয়তো আজ এটি বাংলাদেশের অংশ হত। কাশ্মীরকেও তিনি রক্ষা করেছেন।তার দল আজ দেশের ২১টি রাজ্যে সরকার গড়ে তুলেছে। কিন্তু আমরা সন্তুষ্ট নই। তখনই আমরা, মোদীজি ও আমরা সন্তুষ্ট হব, যখন ২২তম রাজ্য হবে পশ্চিমবঙ্গ।তখনই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।শ্যামাপ্রসাদের জন্যও এটি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে থাকবে। এই দায়িত্ব আমাদের সকলের।পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রয়োজনীয়তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ এমনভাবে হচ্ছে যে গোটা দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে হবে। মমতা দিদি বলছেন, কেন্দ্র কী করে? কেন্দ্রেই সীমান্ত পাহারা দেওয়া হয়।আমি সংসদ ভবনে বলেছিলাম, ফেন্সিংয়ের (কাঁটাতার) জন্য জমি দিতে মমতার সরকার বাধা দিচ্ছে। ফলে নদী, নালা, খাল পেরিয়ে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, এবং পরে পুলিশের তদারকি সত্ত্বেও আটকানো হচ্ছে না।অনুপ্রবেশকারীরা এখানে ভুয়া নথি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার আর পারবে না। কলকাতা হাইকোর্টও সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে, কাঁটাতার দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে জমি দিতে হবে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, মমতার সরকার অনুপ্রবেশ রোধে সচেষ্ট নয়। এটি বড় ধাক্কা দিয়েছে।তবে মমতা এখনও জমি দেবেন না, কারণ ওই অনুপ্রবেশকারীরাই তার ভোটব্যাঙ্ক।অমিত শাহ আরও বলেন, এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে এবং আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তের কাজ শেষ করবে। অসমেও অনুপ্রবেশ চলছিল, তবে আমাদের সরকার আসার পর তা বন্ধ হয়েছে। যেখানে বিজেপির সরকার সেখানে অনুপ্রবেশ হয় না।তিনি আরও বলেন, এটি তৃণমূল সরকারের বিদায় বছর। মানুষ কমিউনিস্টদের থেকে মুক্তি পেতে তৃণমূল সরকারকে এনেছিলেন। এখন এখানে কাটমানি, দাদাগিরি, অনুপ্রবেশ একটি শিল্প হয়ে গেছে। এসব বললে মমতা দিদি আমাকে উপহাস করেন। কিন্তু রামসেতু যখন নির্মিত হচ্ছিল, তখনও বিরোধীরা উপহাস করেছিল। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ৭৭টি আসন পায়। শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হন। এবার বিজেপি আরও এগোবে।বিগত ভোটের পরিসংখ্যান তুলে অমিত শাহ বলেন, এবার বাংলায় বিজেপি ৫০ শতাংশ ভোট পাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন।দিল্লির পরে বিহার জিতেছি। ২০২৬ সালে কেরলে, তিরুঅনন্তপুরে প্রথমবার বিজেপি জিতেছে। মুম্বাইয়েও পুরসভা ভোটে জয়লাভ করেছি। এবার বাংলার বিধানসভা জিতব।চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও তফসিল এখনও ঘোষণা হয়নি, রাজ্যে প্রতিদিনই ভোটের উত্তাপ বাড়ছে। শনিবার রাজ্যে অমিত শাহের জোড়া কর্মসূচি রয়েছে। শুক্রবার রাতেই তিনি কলকাতায় পৌঁছান। প্রথমে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠে কর্মী সম্মেলন করেন।সেখানে বনগাঁ, বসিরহাট, বারাসত ও ব্যারাকপুরের সাংগঠনিক জেলার বিজেপির কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এরপর অমিত শাহ উত্তরবঙ্গে যাবেন। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তিনি বাগডোগরা পৌঁছাবেন। বিকেলে বাগডোগরার এয়ারফোর্স ময়দানে কর্মী সম্মেলন করবেন। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।