সালমান আহম্মদ :স্টাফ রিপোর্টার সময়ে সাথে প্রতিদিন।
ময়মনসিংহের আলোচিত মিরান (২০) হত্যা মামলার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত মো. হাবিজুর ফকির (৩১)কে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে জামালপুর জেলার একটি বাড়ি থেকে হাবিজুর ফকিরকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জামালপুর সদর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ থানা এলাকার যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীপথের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় অভিযান চালানো হয়।পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানান, কয়েক মাস আগে নিহত মিরান গাছ কাটার কাজে তাদের এলাকায় গেলে তার স্ত্রী হাসি বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়। গত ২৮ জুলাই রাতে বাড়িতে ফিরে তিনি মিরানকে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মিরানকে মারধর করেন। পরে মিরান অচেতন হয়ে পড়লে তাকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে মরদেহের দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে দুটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের নদীতে ফেলে দেন বলে পুলিশকে জানান।গত ৭ আগস্ট ভোরে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কুষ্টিয়া ইউনিয়নের নামাপাড়া বিদ্যাগঞ্জ খেয়াঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি মিরানের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পুলিশের বক্তব্য, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। তদন্তের স্বার্থে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
