এম. এ. মতিন (মুকুল), ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।সময়ের সাথে প্রতিদিন
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ‘জুলাই যোদ্ধা’ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বঞ্চিতদের দাবি, বিশেষ রাজনৈতিক দল বা মোর্চার স্বার্থান্বেষী নেতৃবৃন্দের কারসাজিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ভুয়া ও নিজেদের পছন্দসই ব্যক্তিদের নাম দিয়ে গেজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে আন্দোলনকালে সরাসরি অংশ নেওয়া ও আহত হওয়া প্রকৃত জুলাই যোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।বঞ্চিত আন্দোলনকারীদের মতে, বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। আন্দোলন চলাকালীন অসংখ্য স্থিরচিত্র ও ভিডিওচিত্র শিক্ষার্থীদের মোবাইলে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর জামতলা ও বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সময় সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল, যার মেমোরি কার্ড ও রেকর্ড স্থানীয় প্রশাসনের নিকট সংরক্ষিত থাকার কথা। প্রশাসন যদি এসব স্বচিত্র প্রমাণাদি নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করত, তবে এ ধরনের বৈষম্য ও গড়মিল সৃষ্টি হতো না।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই ভূরুঙ্গামারীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রথম গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট জামতলায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিগত আওয়ামী সরকার সমর্থিত গোষ্ঠী ও পুলিশের হামলায় বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা ২৫ জন। অথচ বাস্তবে আহত ও সক্রিয় আন্দোলনকারীর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। তাছাড়া ভুয়া তালিকার কারণে অনেক আহত ও প্রকৃত যোদ্ধা অবহেলিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এবং অনেকে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন।উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় ও স্মরণসভায় প্রকৃত আন্দোলনকারীদের দাওয়াত না দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ জুলাই উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ কিংবা ৫ আগস্টের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৬: সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা’—কোনোটিতেই অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী ও আহত ছাত্রদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, গণমাধ্যমে বা লোকমুখে শুনে যাঁরা উপস্থিত হয়েছিলেন, তাঁদেরও কোনো সংবর্ধনা প্রদান করা হয়নি। এমনকি বর্তমানে ভূরুঙ্গামারীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে যাঁর পরিচয় দেওয়া হচ্ছে (মোঃ রোকনুজ্জামান রোকন), তিনি আন্দোলনের সময়ে প্রকৃত সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেননি বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।আন্দোলনের শুরু থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা শিক্ষার্থীদের সংগৃহীত একটি তালিকায় যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁরা হলেন—জামাদুস সানি, ইয়াকুব আলী শ্রাবণ, গোলাম শাহরিয়ার শাওন, আহসান হাবীব উৎস, আরাফাত, জিএম শাকিব, জয়ন্তা, সামিউল আলম মারুফ, নাফিজুল ইসলাম শ্রাবণ, ওয়াসি, আহসান মন্ডল, রবিউল ইসলাম, লুৎফর রহমান নিলয়, নয়ন, শাহাদাৎজামান সোহাগ, তৃষা, নউসিন, আনিকা, হাসান মাহমুদ জয়, আমিরুল ইসলাম জিসাত, লাবিক, কাফিউল হাসান কৌশিক, বিপ্লব, মিলন (সিনিয়র), মিলন, রুবেল, আফরিদি, রিফাত, সাফল্য, নীরব, রাশেদ ব্যাপারি, সাজিদ, আরিয়ান আরিফ, সুমন, রায়হান, মোজাম্মেল, তনয়, আরশি, ইমু, শোভন, তাশফিক, তাশরিফ, অর্ক, রুবায়েত রায়হান রাকিব এবং তাসিন হাসান ওসামা। এ ছাড়া ৪ আগস্টের হামলায় আহতদের মধ্যে রিফাত, আশরাফুল আলম, নাসির, আলামিন, রাসেল, রাসেল রাফি, সেলিম, মমিন, নোমান, মোঃ এনামুল হক ও মোঃ আব্দুল লতিফ অন্যতম। দ্রুত তালিকা সংশোধনের দাবি- ভূরুঙ্গামারীর প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা ও সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংরক্ষিত স্থিরচিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে অবিলম্বে এই বিতর্কিত তালিকা সংশোধন করা হোক। ভুয়াদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে রক্ত ও শ্রম দেওয়া প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে।
