সালমান আহম্মদ: স্টাফ রিপোর্টার সময়ের সাথে প্রতিদিন কেন্দুয়া নেত্রকোণা
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামলেই মশার আক্রমণে ঘরে-বাইরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রমের অভাবে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে অবাধে মশার প্রজনন হচ্ছে। অথচ নিয়মিত ফগিং, লার্ভা ধ্বংস কিংবা সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে মশার উৎপাত। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।ভুক্তভোগীরা জানান, সন্ধ্যার পর ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা দায় হয়ে পড়েছে। মশারি, কয়েল ও অ্যারোসল ব্যবহার করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। মশার অতিষ্ঠতায় শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, আর বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাভাবিক বিশ্রামও বিঘ্নিত হচ্ছে।এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত উপজেলাজুড়ে নিয়মিত মশক নিধন অভিযান, ফগিং কার্যক্রম, লার্ভা ধ্বংস এবং নালা-নর্দমা পরিষ্কারসহ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলাম রিফাত বলেন, উপজেলায় মশার উপদ্রব কমাতে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল খোঁজার কাজ চলছে। জনবল নিশ্চিত হলেই মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করা হবে।উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের ঘোষিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে মশার উপদ্রব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
