মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া দলিল আদালতে মামলা সরকারি চাকুরিজীবির বিরুদ্ধে 

নেত্রকোনা থেকে ঘুরে এসে নিজস্ব পদবেদক  এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বারহাট্টা উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিটির প্রকৃত মালিক মুক্তুল হোসেন ও তার স্ত্রী হাসনা বানু, দুইজনেই নিঃসন্তান হিসেবে মারা যায়।মুক্তুল হোসেন ও হাসনা বানু থাকাকালীন সময়ে চাচাতো তিন বোনের মধ্যে একজন তরিকের নেছা মারা যান।একমাত্র ওয়ারিশন হিসাবে রেখে যান চাচাতো দুই বোন ইংরেজের মা ও মিজানের মা। অথচ আব্দুর রহমান নামে এক মৃত্যু ব্যক্তিকে জীবিত আর জীবিত ব্যক্তি জানে না দলিলের বিষয়ে,তিনি জমি বিক্রয় করেছেন।এমন ভয়াবহ জাল জালিয়াতি মাধ্যমে জমি লেখে নেওয়ায় আদালতে মামলা করেছেন প্রকৃত ওয়ারিশান ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার।ভুয়া ও জাল দলিলের অভিযুক্তরা হলেন, দীপায়ন দত্ত মজুমদার ববি জেলা খাদ্য পরিদর্শক ও তার চাচাতো ভাই সুমন দত্ত মজুমদার ইউনিভার্সিটি কম্পিউটার অপারেটর। মামলার বাদী ও বিবাদী বারহাট্টা উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে রায়পুর মৌজায় মুক্তল হোসেন ও তার স্ত্রী হাসনা বানু নামে বিআরএস রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত জমি। তারা দুজনে নিঃসন্তান ছিলেন।এদিকে সূত্র জানায়, মৃত আব্দুর রহমান ও জীবিত নজরুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তির পৈতৃক রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত জমি দেখিয়ে একটি জাল জালিয়াতের মাধ্যমে রায়পুর মৌজা বাউসি ভূমি অফিস উল্লেখ করে রায়পুর ইউনিয়নের মুক্তুল হোসেন ও তার স্ত্রীর রেকর্ড ভুক্ত জমি দীপায়ন দত্ত মজুমদার ও তার ভাই সুমন দত্ত মজুমদার নামে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত ও নজরুল ইসলাম জীবিত ব্যক্তি কিছুই জানে না দলিলের বিষয়ে। প্রতারণার মাধ্যমে জমি লিখে নেওয়ার ভয়াবহ জাল জালিয়াতি এলাকায় বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। এই সুযোগে জালিয়াতির সুযোগ নেয় স্থানীয় একটি চক্র।জমি জালিয়াতির ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নানা তদবির শুরু করেন সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখকসহ (ববি)। তবে এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জমির মূল মালিকের বর্তমান ওয়ারিশরা। ভুক্তভোগী জেসমিনের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় ভূমি অফিস, দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করা জমির অবিকল নকলে দেখা যায়, বারহাট্টা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের গত ১৯/৭/২০১১ তারিখে ১৫৬১/১১ দলিলে এ জালিয়াতি হয়েছে।১৪ শতাংশ জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।জমিদাতা মৃত আবদুর রহমান ও নজরুল ইসলাম। জমিদাতার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পাশের উপজেলা পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে।অথচ আব্দুর রহমান ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।দলিল দেখানো হয়েছে এগারো সালের এক বছর আগের।

 

যাহার 

বিআরএস ৮৮৫ খতিয়ান বিআরএস ৫৬৫৮,৫৬৬০দাগের রায়পুর মৌজার জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয় দীপায়ন দত্ত মজুমদার (ববি) ও তার ভাই সুমন দত্ত মজুমদার নামে।তৎকালীন সময়ে দলিল লেখক স্বপন এবং তপন বিশ্বাস , 

সাব রেজিষ্ট্রার মোঃহায়দার আলী দলিলটি সম্পাদন করেন।এদিকে মামলার ভুক্তভোগীর স্বামী আব্দুল হাকিম জানান, জমিটি বারহাট্টা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়নি। বিষয়টি গোপন রাখতে উপজেলা বৃ-কালিকা গ্রামের স্বপন এবং তপন বিশ্বাস এর বাড়িতে দলিল করা হয়েছে। ওই বাড়িতে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ হায়দার আলী গেল ১৯/৭/১১তারিখ দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। ওই বাড়িতে বৃ-কালিকা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দলিলে সাক্ষী হিসেবে সদিব দত্ত মজুম দার (ববি চাচা) স্বাক্ষরও রয়েছে। সেখানে শনাক্তকারী ছিলেন তপন বিশ্বাস। ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার আদালত ও জাল জালিয়াতির সাথে জড়িত সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।