সালমান আহম্মদ স্টাফ রিপোর্টার, সময়ের সাথে প্রতিদিন
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের রহিমপুর (গামরুলী) গ্রামের বাসিন্দা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়িচালক মুতাসিন হুসাইন সিরাজী (প্রজ্জ্বল)-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় রহস্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুম মুসলেম উদ্দিন আকন্দের তৃতীয় ছেলে মুতাসিন হুসাইন সিরাজী পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুর পাইকপাড়ার অফিসার্স কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। স্বজনদের দাবি, ১ জুলাই ভোরে তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা রোফ ডরিন ফোন করে জানান, তিনি বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন এবং স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে। পরে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের একাংশের দাবি, মৃতের কপাল, গাল ও ঘাড়ে আঘাতের মতো চিহ্ন দেখা যায়। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর মুখেও আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে তারা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মৃতের স্ত্রী জানান, আগের রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তার ধারণা, ওই ঘটনার পর স্ট্রোকের কারণে তার স্বামীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণার মর্গে পাঠায়।এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্বজনরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে
