সাংবাদিক, নুরে আলম, প্রতিবেদক, সময়ের সাথে প্রতিদিন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ধর্মমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। কর্মময় জীবনে তিনি একজন দক্ষ সংগঠক, শিক্ষাবিদ এবং জননন্দিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেন।১৯৪২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা মো. আব্বাস আলী ও মাতা মালেকা খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।কৈশোর থেকেই তিনি প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্বের পরিচয় দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের মেঘালয়ের ঢালু যুব শিবিরে ক্যাম্প ইনচার্জ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।তিনি ১৯৮৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল অনন্য। ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করায় 'অধ্যক্ষ' উপাধিটি তাঁর নামের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। এছাড়া বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০২২ সালে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক প্রদান করে।২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট, ৮১ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।সততা, দেশপ্রেম, জনকল্যাণে আত্মনিবেদন এবং শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে।
