রিপোর্টার: মোছাঃ বিলকিস আক্তার : সময়ের সাথে প্রতিদিন
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা একসময় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। তরুণ সমাজের বিপথগামিতা, পারিবারিক অশান্তি, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের পেছনে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উৎকণ্ঠায় ছিলেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করে কঠোর অভিযান শুরু করেন।দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হচ্ছে এবং উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছে।পুলিশ সূত্র জানায়, ওসি শাহীনুর আলম থানার প্রতিটি টিমকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বেড়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো মাদক কারবারির সঙ্গে আপসের সুযোগ নেই। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই। তিনি আরও বলেন, মাদকসংক্রান্ত কোনো মামলায় রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত পরিচয়ে কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। বরং তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান—অপরাধীর পক্ষে নয়, মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য।তিনি আশ্বস্ত করেন, মাদক সংক্রান্ত তথ্যদাতার পরিচয় সর্বোচ্চ গোপন রাখা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পুলিশের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশের অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে।শ্রীপুরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন ওসির নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই কঠোর অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। কারণ একটি মাদকমুক্ত সমাজই পারে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় আগামী প্রজন্মের ভিত্তি রচনা করতে।
