সালমান আহম্মদ :স্টাফ রিপোর্টার সময়ের সাথে প্রতিদিন,নেত্রকোনার কেন্দুয়া। 

 উপজেলায় অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলেও কম ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ আল আমিন জানান, অকাল বন্যায় তার ২৫ কাঠা জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। তিনি কোনো সহায়তা না পেলেও অনেক অক্ষত ব্যক্তির নাম তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ‘ক’ ‘খ’ ও ‘গ’—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির কৃষকদের জন্য ৬ হাজার টাকা ও ৬০ কেজি চাল এবং ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির কৃষকদের জন্য ৩ হাজার টাকা ও ২০ কেজি চাল বরাদ্দ রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অনেককে কম সুবিধার তালিকায় রাখা হয়েছে, অন্যদিকে প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা অধিক সুবিধাপ্রাপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন।কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও কান্দিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম হাবিব বলেন, বেজগাতী গ্রামের অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনকে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় মোট ৮ হাজার ৯৩৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে বরাদ্দ চাওয়া হলেও বরাদ্দ এসেছে ৪ হাজার ৯৩৯ জনের জন্য। ফলে প্রায় ৪ হাজার কৃষক সহায়তার বাইরে রয়েছেন। তালিকা প্রণয়ন বা সহায়তা বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দুর্যোগকালীন সহায়তা প্রদানে রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, বরং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতেই তালিকা তৈরি করে সকল প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।