নিজস্ব প্রতিবেদক, মোহনগঞ্জ | ১২ জুন,

 ২০২৬ পবিত্র জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে মোহনগঞ্জ থানায় এখন এক নতুন জাগরণ শুরু হয়েছে। মোহনগঞ্জ থানার নবাগত ওসির নির্দেশে প্রতিটি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদগুলোতে চলছে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা। পুলিশের এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ এখন স্থানীয় সচেতন মহলে ‘জয়জয়কার’ সৃষ্টি করেছে।এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১২ জুন, শুক্রবার মোহনগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম ট্যাঙ্গাপাড়া বাইতুল নূর জামে মসজিদে এক বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ওসির বার্তা যেন সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।এদিন মসজিদ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় আড়াই শতাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে এক প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অপরাধ নির্মূলে ওসির এই নিরলস শ্রম ও ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। সভায় ওসি বলেন, “মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশকে তথ্যের মাধ্যমে সহায়তা করুন। আপনাদের সন্তানকে সুশিক্ষিত ও নৈতিকতা সম্পন্ন করে গড়ে তোলা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, অন্যের ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, আত্মহত্যার ভয়াবহতা এবং মাজার বা ওরশকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।​উপস্থিত মুসল্লিরা বলেন, ওসি সাহেবের এই জনমুখী কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা অনেক কমে এসেছে। প্রতি শুক্রবার তিনি বিভিন্ন মসজিদে যে বার্তা পৌঁছাচ্ছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত জরুরি।নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা নিরলসভাবে জনসেবা ও সমাজ সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই পুলিশ বাহিনীর প্রতি এলাকাবাসী আজ কৃতজ্ঞ। মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় অনুষ্ঠানের ইতি টানা হয়। মোহনগঞ্জবাসীর মতে, ওসির এই ‘পজিটিভ পুলিশিং’ মডেল সমাজ পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।