জাহাঙ্গীর আলম,  সময়ের সাথে প্রতিদিন।

কুড়িগ্রামের রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদ যেন আজ এক নীরব সাক্ষী হয়ে রইলো এক হৃদয়বিদারক ভালোবাসার গল্পের। পদ্মার চর গ্রামের মোঃ কবির হোসাইন এবং বাওয়াইর গ্রামের মোছাঃ জুঁই আক্তার দুইটি কিশোর কিশোরী, যাদের স্বপ্ন ছিল একসাথে জীবন কাটানোর। দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, একসাথে চলার অঙ্গীকার কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল সমাজের অদৃশ্য দেয়াল। তাদের পরিবারের আপত্তির কারণে এই সম্পর্কটি আর মেনে নেওয়া হলো না। যখন তাদের ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়, তখন এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। কবির এবং জুঁই একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাদের সেই আকুতি যেন উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।আমাদের আলাদা করবেন না, আমাদের বাঁচতে দিন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ কাউকে ছাড়তে চাইছিল না। যেন সেই আলিঙ্গনই ছিল তাদের ভালোবাসার শেষ আশ্রয়। তাদের চেহারায় ফুটে ওঠা সেই দুঃখ এবং অসহায়ত্ব যেন আমাদের সমাজের কিছু কঠিন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা কখনো কখনো সমাজের প্রচলিত কাঠামোর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এবং শেষ পর্যন্ত, বিজয়ী কি শুধু নিয়ম নীতি? নাকি ভালোবাসারও কি কোনো জায়গা আছে আমাদের এই সমাজে?