নিজস্ব সংবাদদাতা: বিলকিস আক্তার সময়ের সাথে প্রতিদিন।
সমাজে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যারা শুধু নিজের সাফল্যের জন্য নয় অন্যের জীবন আলোকিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যান নিরলসভাবে। তারা নিজের অর্জনকে সীমাবদ্ধ রাখেন না ব্যক্তিগত পরিসরে; বরং সমাজের অসহায়, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবন গড়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তেমনই এক মানবিক, উদার ও হৃদয়বান ব্যক্তিত্ব হলেন মোঃ মাহবুবুর রহমান জুয়েল ভূঁইয়া।
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার রায়পুর গ্রামের এই কৃতী সন্তান জন্মগ্রহণ করেন এক সাধারণ হলেও শিক্ষানুরাগী পরিবারে। তার পিতা মোঃ মতিউর রহমান ভূঁইয়া একজন সম্মানিত শিক্ষক, যিনি জয় হরি স্পাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পারিবারিক এই মূল্যবোধ ও শিক্ষার পরিবেশই তার জীবনের ভিত্তিকে করেছে সুদৃঢ়।
নিজের মেধা, সততা, পরিশ্রম ও মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তার জীবনের পথচলা প্রমাণ করে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও মানবিকতা থাকলে যেকোনো মানুষই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ও দক্ষ সংগঠক। তার হাতে গড়ে ওঠা “আর কে সিরামিকস” আজ শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি হয়ে উঠেছে অসংখ্য কর্মহীন ও অসহায় মানুষের জীবনের আশ্রয়স্থল। এক সময় তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খুঁজে এনে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। শুধু চাকরি প্রদান নয়, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, আত্মসম্মানবোধ সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তার এই মানবিক উদ্যোগ অসংখ্য পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। যারা একসময় দারিদ্র্য ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাতো, তারা আজ তার সহায়তায় স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে সম্মানের সাথে জীবনযাপন করছে। এই কারণেই তিনি শ্রমজীবী মানুষের কাছে একজন নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
দীর্ঘদিন তিনি আর কে সিরামিকস এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দক্ষ নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানের হেড অফিসে উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তার অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাচ্ছে।
তবে তার প্রকৃত পরিচয় কোনো পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সহকর্মীদের কাছে তিনি শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তা নন তিনি একজন অভিভাবক, একজন পথপ্রদর্শক এবং একজন নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। তার কাছে মানুষ আসে সমস্যার সমাধান নিয়ে, আর ফিরে যায় নতুন আশার আলো নিয়ে।
তার ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তার বিনয়, হাস্যোজ্জ্বল আচরণ ও আন্তরিকতা। তিনি খুব সহজেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন। শ্রমজীবী মানুষের মাঝে একটি কথা আজও প্রচলিত
আর কে সিরামিকসের যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান মানেই জুয়েল স্যার।
ব্যক্তিগত সমস্যা হোক কিংবা প্রতিষ্ঠানের জটিল কোনো বিষয় তিনি ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও ভালোবাসার মাধ্যমে তা সমাধান করেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার দৃষ্টি অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি তাদের উৎসাহিত করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দেন এবং ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করেন। অনেক তরুণ তার হাত ধরে জীবনের নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছে।তার চারিত্রিক দৃঢ়তা, সহানুভূতি, নেতৃত্বগুণ এবং মানবিক মূল্যবোধ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এমন মহান মনের মানুষ সমাজে সত্যিই বিরল। তিনি শুধু একজন সফল ব্যক্তি নন তিনি একটি আদর্শ, একটি প্রেরণা এবং একটি ভালোবাসার নাম।
স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি আজ আস্থার প্রতীক। মানুষের সুখ দুঃখে পাশে থাকা, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সবার মুখে হাসি ফোটানোই যেন তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।
আমরা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অব্যাহত সাফল্য কামনা করি। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে নেক হায়াত দান করুন এবং তার মানবিক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার তৌফিক দিন এই প্রত্যাশাই সবার।
