নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোণা | নেত্রকোণা পৌরসভায় ৮টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের চলছে কানাঘুষা । এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরেই পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার (সাবেক সচিব) বদলি আদেশের বিরুদ্ধে সরকারকে বিবাদী করে রিট পিটিশন করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। মূলত নিয়োগের মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অঙ্কের ‘কালো টাকা’ এবং দুর্নীতির সাম্রাজ্য রক্ষা করতেই এই আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্রমতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের সুযোগে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত এই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার তোড়জোড় চলেছিল। এই ৮টি পদের বিপরীতে সংগৃহীত কয়েক কোটি টাকার ‘চোরাচালান’ সম্পন্ন হয় ৫/৬ জন অসাধু ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীর মাধ্যমে। তবে দলীয় বাধা এবং স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিবাদের মুখে শেষ মুহূর্তে এই নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে একে ‘সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস’র মৃত্যু হিসেবে দেখছেন অনেকে।গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে (স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০৬৩.১১.০০৩.২৪.১-৯) স্পষ্ট জানানো হয়, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং অনিয়ম তদন্ত সরকারের এখতিয়ারাধীন। এই নতুন নীতিমালার আলোকে নেত্রকোণা পৌরসভার তৎকালীন সচিব (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা) আনোয়ার হোসেন ওরফে মামুনকে বদলি করা হলে শুরু হয় অস্থিরতা। নিয়োগের জন্য যারা টাকা দিয়েছিলেন, সচিব বদলি হয়ে যাওয়ায় তাদের টাকা ফেরতের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আর এই ভয় থেকেই বদলি ঠেকাতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

​অনুসন্ধানে সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেন মামুনের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয়রা জানান:​বহুতল ভবন: ১০ তলা ভিত্তির উপর বর্তমানে ৬ তলা বিশিষ্ট আলিশান ভবন নির্মাণ করছেন তিনি।

 নিজের এলাকা ছাড়াও শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর নামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।: স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের ভাইকে নেত্রকোনা নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগও সর্বজনবিদিত।​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এলাকার এক কৃষক বলেন, "মামুন সাহেব চাকরি পেয়ে যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। অল্প দিনেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। নিজের ভাইসহ এলাকার অনেককে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও ফায়দা লুটেছেন।"​গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ পরীক্ষাটি ০২ ফেব্রুয়ারি এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়। এই স্থগিতাদেশের পেছনে প্রশাসনিক কারণ দেখানো হলেও নেপথ্যে ছিল অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ঘুসের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে জটিলতা।​বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও আনোয়ার হোসেন মামুন কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেন এবং কেন তিনি নিয়ম মেনে বদলি না হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি যুদ্ধে লিপ্ত হলেন? এই দুর্নীতির উৎস খুঁজতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেত্রকোণাবাসী।