নিজস্ব প্রতিবেদক | ধনবাড়ী
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের কেরামজানী চরপাড়া এলাকাটি যেন দিন দিন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির অভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে গাঁজা চাষের মতো মারাত্মক অবৈধ কর্মকাণ্ড। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকার সাধারণ মানুষ এবং মাদকের ভয়াল থাবায় বিপথগামী হওয়ার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে যুবসমাজ। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি: স্থানীয়দের অভিযোগ এবং 'ধনবাড়ী খবর'-এর অনুসন্ধানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
-
নজরদারির অভাব: কেরামজানী চরপাড়া এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নজরদারির বাইরে রয়েছে। এলাকায় পুলিশের টহল বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি একেবারেই নেই বললেই চলে।
-
অপরাধীদের আনাগোনা: প্রশাসনের এই অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অপরাধী চক্র ও বখাটেরা এলাকায় অবাধে ঘোরাফেরা করছে। অনেক সময় বড় বড় অপরাধীরা এই এলাকাটিকে গা ঢাকা দেওয়ার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে।
-
প্রকাশ্যে গাঁজা চাষ: সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এলাকায় সম্প্রতি প্রকাশ্যে গাঁজা চাষের মতো ধৃষ্টতামূলক কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত।
প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি: নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে কেরামজানী চরপাড়ার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন: ১. এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজা চাষের ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ২. বহিরাগত এবং অপরাধী চক্রের আনাগোনা ও দৌরাত্ম্য বন্ধে এলাকায় নিয়মিত পুলিশের টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা। ৩. যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
সচেতন মহলের আহ্বান: স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এখনই এই অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরা না হলে কেরামজানী চরপাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ঘটবে। তাই অবিলম্বে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
