মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পূর্ব ধরাটি গ্রামে একটি গারো আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর অবশেষে হস্তক্ষেপ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপে পরিবারটির উচ্ছেদ স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৯ মার্চ বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থা (বশিউক) বা রাবার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে পূর্ব ধরাটি কালাপাহাড় এলাকায় ওই গারো পরিবারের বসতবাড়ি ভেঙে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ঘটনাটি নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তা মধুপুর উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের নজরে আসে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দ্রুত ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় আদিবাসী নেতা অলিক মৃ (Alik Mree)-এর ফেসবুক আইডি ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রশাসন এবং বনবিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী আদিবাসী পরিবারটিকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে:

১. উচ্ছেদ স্থগিত: ওই আদিবাসী পরিবারকে তাদের বর্তমান বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হবে না। ২. সীমানা নির্ধারণ: রাবার বাগানের ম্যানেজার আদিবাসী পরিবারটির বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে দেবেন। ৩. ক্ষতিপূরণ ও ঘর নির্মাণ: যেহেতু উচ্ছেদ অভিযানে রাবার বাগানের লোকজন ঘর ভেঙেছিল, তাই নতুন করে ঘর তোলার জন্য প্রয়োজনীয় খুঁটি রাবার বাগানের ম্যানেজার নিজ দায়িত্বে কিনে দেবেন। ৪. সরকারি সহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকারি তহবিল থেকে ২ বান্ডিল টিন এবং নগদ ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন। ৫. আনসার প্রত্যাহার: বিনা নোটিশে উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হবে।

প্রশাসনের এমন ত্বরিত পদক্ষেপে ভুক্তভোগী পরিবারসহ পুরো মধুপুরের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মধুপুরের ইউএনও এবং ওসির এই মানবিক ও সাহসী উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণেই একটি অসহায় পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন থেকে রক্ষা পেল।