মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের পূর্ব ধারাটি কালাপাহাড় এলাকায় সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত আদিবাসী গারো পরিবারের বসতবাড়িতে আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বনবিভাগ। গত ৯ মার্চ দুপুরে বাংলাদেশ বনবিভাগের আওতাধীন চাঁদপুর রাবার এস্টেটের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব লিখিত নোটিশ ছাড়াই তাদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আকস্মিক এই অভিযানে চরম বিপাকে পড়েছে অসহায় গারো পরিবারগুলো। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। ভুক্তভোগী আদিবাসীদের কান্নাজড়িত প্রশ্ন— "বিনা নোটিশে আমাদের উচ্ছেদ করা হলো, এখন আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব?"
তারা জানান, বনবিভাগ যদি জমি উদ্ধারের আগে একটি লিখিত নোটিশ দিত, তবে হয়তো তাদের এত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না। তারা অন্তত নিজেদের জিনিসপত্র নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকু পেতেন।
এদিকে, এই উচ্ছেদ অভিযানের পর মধুপুরের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তারা জোর দাবি জানিয়েছেন— মধুপুর বনের হাজার হাজার বিঘা জমি বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বছরের পর বছর ধরে বেদখল হয়ে আছে। সেখানে অবাধে প্রভাবশালীরা বাণিজ্যিকভাবে কলা, আনারস, আদা ও হলুদের চাষ করে যাচ্ছে। সেই রাঘববোয়াল দখলদারদের বিরুদ্ধে সরকার বা বনবিভাগ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
আদিবাসী সম্প্রদায় ও স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, বনভূমির জমি উদ্ধারে যদি সত্যিসত্যিই উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হয়, তবে তা সারা মধুপুর বনজুড়ে হওয়া উচিত। যারা হাজার বিঘা বনভূমির জমি বেদখল করে খাচ্ছে, সবার আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না করে, বৈষম্যমূলকভাবে কেবল পাহাড়ে বসবাসরত গরিব ও অসহায় গুটিকয়েক আদিবাসী পরিবারের ওপর হামলা করে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
স্থানীয় সুধীমহলের মতে, রাষ্ট্রের বনভূমি রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি যুগ যুগ ধরে গড়াঞ্চলে বসবাসরত প্রান্তিক আদিবাসীদের মানবাধিকার ও বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করাও সমধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর না হয়ে কেবল অসহায়দের ওপর এমন উচ্ছেদ অভিযান বনবিভাগের দ্বিমুখী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে উচ্ছেদ হওয়া অসহায় পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
