জামালপুর  জেলা প্রতিনিধি

সময়ের সাথে প্রতিদিন 

দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী দেওয়ানগঞ্জ কম্পিউটার ট্রেনে নিয়ম ভেঙে পাওয়ারকারে যাত্রী বহনের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের বিধি অনুযায়ী পাওয়ারকারে যাত্রী বহনের কোনো সুযোগ না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে সেখানে যাত্রী উঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ কম্পিউটার ট্রেনটির পাওয়ারকারের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিয়মিতভাবে অবৈধভাবে যাত্রী বহন করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে প্রতিদিন হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের অবৈধ টাকা।গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) ট্রেনটি জামালপুর স্টেশনে পৌঁছালে পাওয়ারকারে যাত্রী ওঠা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এক যাত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন পাওয়ারকারের দায়িত্বরত ব্যক্তি। এতে স্টেশনে কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।যাত্রীদের অভিযোগ, এই কম্পিউটার ট্রেনে প্রতিদিনই পাওয়ারকারে যাত্রী নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনেও না দেখার ভান করে চলেছেন। ফলে এই অনিয়ম দিন দিন যেন নিয়মে পরিণত হচ্ছে।এদিকে শুধু পাওয়ারকার নয়, কম্পিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারেও চলছে আরেকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, একটি আসনের বিপরীতে একাধিক স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে নীরবে আদায় করা হচ্ছে অবৈধ অর্থ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যাত্রী জানান, “একটি সিটের জন্য ২ থেকে ৪টি টিকিট কাটতে বাধ্য করা হয়। অন্যথায় ৭০ টাকার টিকিট ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজ হয় না, বরং সরাসরি বলা হয় টিকিট নেই।” এই সিন্ডিকেটের কারণে যাত্রীদের হয় অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে, না হয় দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হচ্ছে।রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, কম্পিউটার ট্রেনগুলো ইজারার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি পরিচালনা করায় অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলরা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। ট্রেনের পাওয়ারকারে অবৈধ যাত্রী বহন ও টিকিট কাউন্টারের সিন্ডিকেট বন্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে যাত্রী নিরাপত্তা ও রেলওয়ের ভাবমূর্তি দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।