নিজস্ব প্রতিবেদক
সময়ের সাথে প্রতিদিন
দিনাজপুর রেলওয়ের পি ডাব্লিউ আই (PWI) সাইফুল ইসলাম তিনি বর্তমানে দিনাজপুরে কর্মরত থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্বে ঠাকুরগাঁও সেকশনের কার্যক্রম দেখভাল করছেন। অভিযোগের সঙ্গে লালমনিরহাটের ডিএন মো. শিপন আলীর নামও উঠে এসেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর সেকশনের ওয়েম্যান, কি-ম্যান, মেইট, চৌকিদার ও ট্রলিম্যানদের কাছ থেকে কাঠের হোন্দোর নামে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও বাস্তবে কাউকেই কাঠ দেওয়া হয়নি। এতে করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।এছাড়া দুই সেকশনেই মাসকিয়া ছাড় দেওয়ার কথা বলে প্রতিমাসে জনপ্রতি সর্বনিম্ন আট থেকে নয় হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যেসব গ্যাং হাজিরা বা মাসকিয়া দিতে রাজি হয় না, তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।গত মাসে ঠাকুরগাঁও সেকশনের আট নম্বর গ্যাংয়ের ওয়েম্যানরা নিয়মিত ডিউটি পালন করার পরও তাদের একদিন অনুপস্থিত দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অথচ একই গ্যাংয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কি-ম্যান টানা তিন দিন অনুপস্থিত থাকার পরও অর্থের বিনিময়ে সেই অনুপস্থিতি রেকর্ড থেকে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, টি এ বিল তৈরি এবং অ্যাকাউন্টে পাশ করানোর নামে কর্মচারীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে দশ শতাংশ হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও অফিসে টাইম কিপার না থাকায় একজন ওয়েম্যানকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তার মাধ্যমেই বিভিন্ন বিল পাশ করানোসহ এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।মাঠপর্যায়ে এসব অনিয়ম পরিচালনায় পি ডাব্লিউ আই সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ও অনুগত কয়েকজন কর্মচারী সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বাবুল রহমান (১১ কেপি), শহিদুল ইসলাম (১২ কেপি), আব্দুর রশিদ (১৪ কেপি) এবং দিনাজপুরের অতিরিক্ত মেইট আজাদ, ভারপ্রাপ্ত কি-ম্যান নুরুজ্জামান রাসেল ও অতিরিক্ত মেইট কামরুল। অভিযোগকারীদের দাবি, এদের মাধ্যমেই সেকশনে সাইফুল ইসলামের প্রভাব ও ক্ষমতা বিস্তার করা হচ্ছে।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের পরিত্যক্ত কাঠ পি ডাব্লিউ আই সাবের মাধ্যমে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে ঘটছে বলে দাবি করা হচ্ছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঊর্ধ্বতন উপ -সহকারী প্রকৌশলী , সাইফুল ইসলাম রেলনিউজকে বলেন,কাঠের আবেদন এখনও জমা আছে। যাদের প্রয়োজন হয় নিয়ে নিবে। মাসকিয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এরা কতো টাকাই বেতন পায়। যে অনুপস্থিত থাকে তাকেই অনুপস্থিত দেখানো হয়। অনিয়ম এর কোন সুযোগ নেই। বিল পাশের জন্য কোন প্রকার টাকা নেয়া হয় না।
