টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: রামচন্দ্র ঘোষ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদ। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. জুবায়ের হোসেনের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন।মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে মধুপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সকাল থেকেই নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দুপুরের দিকে কর্নেল আজাদ সেখানে পৌঁছালে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। স্লোগান, করতালি ও শুভেচ্ছায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।


দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত  দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে টাঙ্গাইল-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।


নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও সমর্থন মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় কর্নেল আজাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সমর্থন গোষ্ঠীর আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, আরশাফুল ইসলাম মাসুদ, নুরুল আলম মেম্বার, সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত অসংখ্য সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর পাশে অবস্থান নেন।


কর্নেল আজাদের প্রতিক্রিয়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন,“আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। দলীয় হিসাব নয়, জনগণের অধিকার ও এলাকার উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। মধুপুর ও ধনবাড়ীর মানুষ আমাকে ভালোবাসে, তাদের সেই ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমি নির্বাচনে লড়াই করছি।তিনি আরও বলেন,“নির্বাচিত হলে আমি সুশাসন নিশ্চিত করব, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ করব। এই আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে, সেই পরিবর্তন আমি এনে দিতে চাই।”


সামরিক জীবন থেকে রাজনীতিতে  লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদ দীর্ঘদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। শৃঙ্খলা, সততা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।টাঙ্গাইল-১ আসনের রাজনৈতিক গুরুত্ব
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী) আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে পরিচিত। কৃষি, বনভূমি, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—সব মিলিয়ে এই এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা দুটোই ব্যাপক। ফলে এখানে জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের সংযোগ বড় ভূমিকা রাখে।


স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্নেল আজাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করবে। ভোটারদের একটি বড় অংশ তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ ও উন্নয়নমুখী বক্তব্যের দিকে ঝুঁকতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা। উৎসবমুখর পরিবেশ, বাড়ছে উত্তাপ মনোনয়ন জমাদানের দিনটি ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সমর্থকদের উপস্থিতি ও আগ্রহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, টাঙ্গাইল-১ আসনে এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সব মিলিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের মাঠে নামা টাঙ্গাইল-১ আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের মাঠে এই সমর্থন কতটা প্রতিফলিত হয়।