কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমার নদীর ওপর নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ হতে চললেও সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) জটিলতায় চলতি বছরেও চালু হচ্ছে না এটি। বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের সাথে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ায় সেতুর পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এখনো শুরুই করা সম্ভব হয়নি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ শামীম রেজার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলে জানা গেছে- রেলওয়ে বিভাগের দাবি সংযোগ সড়কের প্রস্তাবিত জায়গাটি তাদের। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এটি ব্যক্তি মালিকানার। এই জটিলতা নিরসনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে হয়নি। তবে চলতি মাসের মধ্যেই বিষয়টি সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ৬৪৫.১৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটির মূল অংশের ফুটপাথ ও রেলিং স্থাপনের কাজ চলছে। পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কে ইট ও পাথরের খোয়া ফেলার পাশাপাশি নদীর পাড়ে বোল্ডার ফেলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে পূর্ব পাশে উল্টো চিত্র—প্রস্তাবিত সংযোগ সড়কের জমিতে এখনো মানুষের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রয়ে গেছে। রেলওয়ের সাথে ভূমি জটিলতা না মেটায় আটকে আছে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, নদের ওপর সেতু প্রস্তুত থাকলেও সংযোগ সড়কের অভাবে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের সঙ্গে সোনাহাট স্থলবন্দরসহ সীমান্তবর্তী ৭টি ইউনিয়নের সহজ যোগাযোগ স্থাপন ও বাণিজ্য প্রসারের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তা সংযোগ সড়কের জটিলতায় আটকে রয়েছে। সোনাহাট সেতু প্রকল্প ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন হয় এবং এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু করে। ৬৪৫.১৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২.১ কিলোমিটারের সংযোগ সড়ক সহ এই প্রকল্পের প্রাক্কলন মূল্য ধরা হয় প্রায় ১৫১ কোটি টাকা এবং কন্ট্রাক্ট মূল্য ধরা হয় প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা। নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি জটিলতা, সেতুর নকশা পরিবর্তন, করোনা মহামারীর প্রভাব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতির কারণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ মেয়াদে বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের সময়সীমা। বর্তমানে সেতু চালু না হওয়ায় সোনাহাট স্থলবন্দরগামী পাথর ও কয়লাবোঝাই ভারী ট্রাকগুলোকে পারাপার হতে হচ্ছে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো স্টিলের সেতু দিয়ে। প্রায়ই পণ্যবাহী ট্রাকের ভারে পুরনো সেতুর পাটাতন ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাজারো যানবাহন আটকে থেকে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সোনাহাট স্থল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে। দ্রুত জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্দরের ব্যবসায়ীরা। নতুন সেতুটি চালু হলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের সঙ্গে সোনাহাট স্থলবন্দরসহ ৭টি ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে, আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
সারাদেশ
সংযোগ সড়কের জমি নিয়ে জটিলতা, এ বছর চালু হচ্ছেনা সোনাহাট সড়ক সেতু।
প্রতিবেদক
মোঃ আব্দুল মতিন (মুকুল)
06 September, 2026, 11:39 AM
এরকম আরও সংবাদ
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
