সালমান আহম্মদ : স্টাফ রিপোর্টার:সময়ের সাথে প্রতিদিন। 

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের পাইকুড়া বাজারে সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত খাস জমি ও দোকানঘর খাজনা রশিদের ভিত্তিতে লাখ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পাইকুড়া বাজারের সরকারি খাস জমিতে নির্মিত দোকানঘর নিজেদের দখলীয় সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করছে। ক্রেতাদের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে যে, পরবর্তীতে ভূমি অফিসের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। প্রতি শতক জমির জন্য ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও ক্রেতাদের কোনো নিবন্ধিত দলিল দেওয়া হচ্ছে না। কেবল খাজনা পরিশোধের রশিদের ফটোকপি দেওয়া হচ্ছে, যা আইনগতভাবে মালিকানার প্রমাণ নয়।একাধিক ভুক্তভোগী জানান, খাজনা রশিদ দেখে তারা জমি কিনেছেন। পরে জানতে পারেন, এসব রশিদের মাধ্যমে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। ফলে তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।আইনজীবীদের মতে, ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি সরকারি সম্পত্তি। সরকার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের জমি বিক্রি করার আইনগত অধিকার রাখে না। খাজনা রশিদ বা দখল রশিদ কখনোই মালিকানার বৈধ প্রমাণ নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতারণার শামিল এবং প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, পাইকুড়া বাজারসহ ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সব জমিই সরকারি। কেউ যদি খাজনা রশিদ দেখিয়ে এসব জমি বিক্রি করে থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় পাইকুড়া ইউনিয়নের সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি খাস জমি কেনাবেচার নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা থেকে রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।