সালমান আহম্মদ: স্টাফ রিপোর্টার, সময়ের সাথে প্রতিদিন।
চট্টগ্রামে আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার।টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের একাধিক উপজেলা ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। এতে প্রায় ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত এবং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকটে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধে 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার, অনুসন্ধান (Search and Rescue-SAR) এবং ত্রাণ কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।জানা গেছে, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন জরুরি উদ্ধারকারী দল, নৌযান এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে মাঠে কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।অন্যদিকে, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন অনুসন্ধান ও উদ্ধার (SAR) কার্যক্রম জোরদার করেছে। উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্প থেকে সার্বক্ষণিক উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা নৌযানের মাধ্যমে দুর্গম ও প্লাবিত অঞ্চলে পৌঁছে আটকে পড়া নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করছেন। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের হাতে চাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।সেনাবাহিনীর এই মানবিক সহায়তা বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকে পড়া পর্যটকদেরও নিরাপদে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সেনাসদস্যরা দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত ও বদ্ধপরিকর। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্রুত, সমন্বিত ও মানবিক উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের পাশে এক নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষা এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
