ডিজাইন: ইমেজ চালু
শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ, বিজিবির যৌথ অভিযানে ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল জব্দ।


কুড়িগ্রামের ভূরুংগামারীতে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ এনামুল হক অন্তর (২৬) নামের এক চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট-২০২৬) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ যৌথ অভিযানে ভূরুংগামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের আসাদমোড় এলাকার বিএসসি পাড়ার এক বসতবাড়ি থেকে ৫৫টি ব্যবহৃত বিলাসবহুল মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে আসাদমোড় এলাকার বাসিন্দা মো: ময়েন আলীর ছেলে এনামুল হক অন্তরের বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির হাঁস-মুরগীর খোঁয়াড়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আইফোন, মটোরোলা, অপ্পো, রেডমি, রিয়েলমি ও ভিভো সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৫টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী ভারত ও বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতে চুরি বা ছিনতাই হওয়া এসব ফোন সীমান্ত টপকে বাংলাদেশে পাচার করে আসছিল। কোনো প্রকার বৈধ আইএমইআই (IMEI) রেজিস্ট্রেশন ছাড়া এসব চোরাই ফোন আসাদমোড় কেন্দ্রিক আখড়া থেকে রংপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো। অপরাধী চক্র বিভিন্ন সময়ে এসব রেজিস্ট্রেশনহীন ফোন ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা। কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধীন ধলডাংগা ক্যাম্প কমান্ডার সুবাদার মোঃ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টিম এবং ভূরুংগামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে থানার এসআই সাইফুল ইসলাম, আল-আমিন ও আসাদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের একটি আভিযানিক দল যৌথভাবে এই সাঁড়াশি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করে। অভিযানের বিষয়ে ভূরুংগামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, "আসাদমোড় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারিদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির সহযোগিতায় সুপরিকল্পিতভাবে এই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সীমান্ত ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অপরাধ দমনে বিজিবি ও পুলিশের এমন যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।" গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।