ডিজাইন: ইমেজ চালু
শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

কলকাতার হোটেলে আগুনে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত


নিজস্ব প্রতিবেদক :সময়ের সাথে প্রতিদিন। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬।  ১৮:০৫ ভারতের

 পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন - সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৮), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭), আড়াই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৫)। দেবাশীষ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও শ্বশুরকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কলকাতা যান দেবাশীষ। সেখান থেকে তারা বেঙ্গালুরুতে যান। চিকিৎসা শেষে কলকাতায় ফিরে একটি হোটেলে ওঠেন। আজ বুধবার সকালে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ভয়াবহ আগুনে সব শেষ হয়ে যায়। দেবাশীষের ভাইরা ফিরোজ হোসেন বলেন, "তিনি ও তার শ্বশুর চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। আমি গত সোমবার বিমানে দেশে ফিরে আসি। ওরা কলকাতায় ছিল, আজ ফেরার কথা ছিল। সকালে অনেকবার ফোন করেও সাড়া পাইনি। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা ফোন ধরে মৃত্যুর খবর জানান।" এদিকে এই খবরে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাঁদতে কাঁদতে দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্ত বলেন, ‘কাল রাতেও আমার সোনার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হলো। হাসতে হাসতে বলল, মা কালই দেশে ফিরব। কত কেনাকাটা করেছে, সেগুলো দেখাল। এমন খবর শুনতে হবে ভাবিনি।’ ভারতে যাওয়ার সময় নিজের বড় মেয়ে দিবানীত দত্তকে দাদা-দাদির কাছে রেখে গিয়েছিলেন দেবাশীষ। এ কারণে প্রাণে বেঁচে গেছে শিশুটি। বাবা-মা ও ভাইকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছে সে। দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, সকালে টেলিভিশনে দেখেছি কলকাতার হোটেলে আগুনে আটজন মারা গেছেন। এর মধ্যে আমার সন্তানরা থাকবে, কখনও ভাবতে পারিনি। দেবাশীষ ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।মরদেহ আনতে আজ বুধবারই কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ভাইরা ফিরোজ হোসেন। সব প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মরদেহ দেশে আনা হতে পারে বলে পরিবার জানিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এদিকে দেবাশীষের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন, ‘দেবাশীষ ছিল আপাদমস্তক সাংবাদিক। তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল সংবাদ নিয়ে।’ কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তার রেখে যাওয়া সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।