ভুরুঙ্গামারীতে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সার বিতরণের আগেই কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগে এক বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ডিলারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ডিলারশিপ বাতিলের দাবিতে ভুক্তভোগী কৃষকেরা এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। রোববার (৯ আগস্ট) উপজেলার পাথরডুবী ইউনিয়নের মেসার্স শহিদুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ডিলার আলহাজ্ব মো. শহিদুল আলম ব্যাপারীর ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরডুবি ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৭৭ বস্তা রাসায়নিক সার নির্ধারিত দিনে বিতরণের কথা ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, সার বিতরণের আগেই বরাদ্দকৃত সারের সিংহভাগ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন ডিলার শহিদুল আলম। এতে নির্ধারিত দিনে সার নিতে আসা সাধারণ কৃষকেরা খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কৃষি উৎপাদনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার না পেয়ে তিব্র সংকটে পড়েন ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাশারকে আটকে রেখে প্রতিবাদ জানান। খবর পেয়ে পাথরডুবি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির মিঠু এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তী দিন কৃষকদের সার বুঝিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হলে কৃষকেরা অবরুদ্ধ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেন। এ বিষয়ে পাথরডুবি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির মিঠু বলেন, "কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার আগের দিনই থানাঘাট বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এটি সীমান্তবর্তী এলাকা এবং ভারতে সারের দাম বেশি হওয়ায় অধিক লাভের আশায় একটি চক্র সীমান্তে সার পাচারের চেষ্টা করছে।" অত্র ইউনিয়নের ধান ব্যবসায়ী মোঃ ইউসুব আলীও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে মেসার্স শহিদুল ট্রেডার্সের পাথরডুবির থানাঘাট ডিলার পয়েন্টে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। ফলে ডিলার শহিদুল আলম ব্যাপারীর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল জব্বার প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডিলার মো. শহিদুল আলম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও নির্ধারিত পয়েন্টের বাইরে সার বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ডিলারশিপের প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজ স্ত্রীর (মোছাঃ মাসুদি ডেইজি) নামেও 'মেসার্স সুমন এন্টারপ্রাইজ' নামে আরও একটি সার ডিলার লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় সার ডিলারদের অনিয়ম ও কালোবাজারি বন্ধে কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ডিলারের ধারাবাহিক দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে তাঁর ডিলারশিপ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা।