রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে নতুন সাংবিধানিক অধ্যায় অন্তর্বর্তী দায়িত্বে স্পিকার, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
দুঃখিত, ছবিটি লোড করা যাচ্ছে না।
সালমান আহম্মদ :স্টাফ রিপোর্টার সময়ের সাথে প্রতিদিন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, সংবিধানের বিধান অনুসারেই এই দায়িত্বভার গ্রহণ করা হয়েছে।২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনির জটিলতা এবং Autonomic Neuropathy-সহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। এসব শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে থাকতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই দেশের স্বার্থ এবং সংবিধানের প্রতি সম্মান রেখে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সাংবিধানিক বিধান অনুসারেই স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।এদিকে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর নজর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।