ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

নেত্রকোনায় বাকপ্রতিবন্ধীর ক্ষোভ মহিষভেড় পূর্বপাড়া রাস্তা করুণ রাস্তা,।


সাইদুল ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি সময়ের সাথে প্রতিদিন। 

কথা বলতে পারেন না, কিন্তু তার ক্ষোভ ও আকুতির ভাষা বুঝে নিতে কোনো দোভাষীর প্রয়োজন হয়নি।" মহিষবেড় পূর্বপাড়া এলাকার প্রধান রাস্তাটির করুণ দশা এবং কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা নিয়ে এভাবেই হাত-পায়ের ইশারায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এক বাকপ্রতিবন্ধী বাসিন্দা। তার এই সংবেদনশীল কিন্তু জোরালো প্রতিবাদ এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।নীরব কিন্তু জোরালো প্রতিবাদ,দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে মহিষবেড় পূর্বপাড়ার রাস্তাটি চলাচলের একদম অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড় বড় খানাখন্দ, বর্ষায় হাঁটু সমান কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। কিন্তু প্রতিনিয়ত এই দুর্ভোগ সহ্য করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।অবশেষে এলাকার এক বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি রাস্তায় নেমে এসে ইশারা-ইঙ্গিতে প্রতিবাদ জানান। ভাঙা গর্তগুলোর দিকে আঙুল উঁচিয়ে, বারবার মাথা নেড়ে এবং হাত দিয়ে আক্ষেপের ভঙ্গি করে তিনি উপস্থিত জনতাকে বোঝাতে চান—“এত বড় সমস্যা, অথচ এটা দেখার কি কেউ নেই? তার এই ভাষা কোনো শব্দের চেয়ে কোনো অংশে কম প্রভাবশালী ছিল না।​নাড়া দিয়েছে এলাকাবাসীকে বাকপ্রতিবন্ধী ওই ব্যক্তির প্রতিবাদের দৃশ্য দেখে আশপাশের মানুষ জড়ো হতে থাকেন। তার এই নিষ্পাপ কিন্তু ঝাঁঝালো প্রতিবাদ নাড়া দিয়েছে পুরো এলাকাকে।​স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন,আমরা মুখে বলেও যে দাবি কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছাতে পারিনি, একজন বাকপ্রতিবন্ধী মানুষ তার ইশারায় সেই সত্যটা সবার চোখের সামনে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। যেন মনে হচ্ছে গোটা এলাকার অসহায়ত্ব তার এই নিরব চিৎকারে ফুটে উঠেছে।​কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের আকুল আবেদনএলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোটের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনের পর আর রাস্তার কোনো খোঁজ থাকে না। মহিষবেড় পূর্বপাড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। 

অথচ রাস্তাটির এমন দশা যেন অভিভাবকহীন কোনো এলাকা!​স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন, একজন বাকপ্রতিবন্ধী মানুষের এই আকুল আবেদন ও সমালোচনা অন্তত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙাবে। অবিলম্বে মহিষবেড় পূর্বপাড়া রাস্তাটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসানের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।