ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

পূর্বধলায় নদীতে ইট বাঁধা নবজাতকের লাশ উদ্ধার: চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন, ধর্ষক গ্রেপ্তার।


নিজস্ব প্রতিবেদক: সময়ের সাথে প্রতিদিন

​নেত্রকোণার পূর্বধলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহর নদী থেকে ইট বাঁধা অবস্থায় নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনার লোমহর্ষক রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ, গর্ভপাত এবং পরবর্তীতে লাশ গুমের এই নির্মম ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।​মঙ্গলবার (দুপুরে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে।গ্রেপ্তারকৃত আসামীর পরিচয়:গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মোঃ সাজন মিয়া (২৫)। সে পূর্বধলা উপজেলার কোনাকালিহর মাইজপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ভিকটিম ১২ বছর বয়সী এক শিশু। তার মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করায় প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী সাজন মিয়া প্রায় সাত মাস আগে সকালে ভিকটিমকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিতভাবে তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বয়সে ছোট এবং স্বাস্থ্য কম হওয়ায় তার পরিবার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারেনি।গর্ভপাত ও নির্মমভাবে লাশ গুম:গত ২৮ জুন সকালে ভিকটিম পেটে ব্যথা অনুভব করলে তার মা তাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাইয়ে কর্মস্থলে চলে যান। ঐদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে ব্যথা তীব্র হলে রাত অনুমান ১টার দিকে বসতঘরের প্রস্রাবখানার পাশে শিশুটির গর্ভপাত ঘটে এবং একটি মৃত কন্যা শিশুর জন্ম হয়।ভিকটিম বিষয়টি তার মাকে জানালে এবং ধর্ষণের কথা স্বীকার করলে, তার মা সাজন মিয়াকে ডেকে আনেন। সাজন মিয়া ধর্ষণের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনা প্রকাশ না করতে পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি কালো শার্ট দিয়ে পেঁচিয়ে, রশি দিয়ে ইট বেঁধে ভোর ৪টার দিকে অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় নবজাতকের লাশটি কালিহর নদীতে ফেলে দেয়।পুলিশের তৎপরতা ও তদন্ত:গত ২৯ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালিহর মাইজপাড়া এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় ইট বাঁধা নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পূর্বধলা থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরপর নিবিড় তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল অপরাধী সাজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ:পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, আসামী সাজন মিয়ার বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণের ঘটনায় পৃথক মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।