ডিজাইন: ইমেজ চালু
শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

জামালপুর কমিউটার ট্রেনে হারানো ৩৫ হাজার টাকাসহ ব্যাগ উদ্ধার, শ্রমিকের মুখে হাসি ফেরালো রেলওয়ে পুলিশ


নিজস্ব প্রতিবেদক: সময়ের সাথে প্রতিদিন 

ট্রেনে হারানো টাকা ও মূল্যবান মালামাল যে আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জামালপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ। পুলিশের তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া ৩৫ হাজার টাকা ও ব্যক্তিগত মালামালসহ ব্যাগ ফিরে পেয়ে আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়েছেন শ্রমজীবী ট্রেনযাত্রী মো. আলামিন।জানা যায়, জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের ডেফলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. আলামিন গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি কার্টন কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে ঈদের ছুটি উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন থেকে জামালপুর কমিউটার ট্রেনে যাত্রা করেন। তার ব্যাগে কষ্টার্জিত বেতনের নগদ ৩৫ হাজার টাকা, কাপড়চোপড়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল।পথিমধ্যে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় তিনি ব্যাগটি বগির ভেতরে রেখে প্ল্যাটফর্মে নেমে চা পান করতে যান। এ সময় ট্রেনটি জামালপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে তিনি ব্যাগটি ট্রেনে রেখে আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে দ্রুত গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারকে বিষয়টি জানান।স্টেশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পৌঁছে যায় জামালপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ও জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে। বিষয়টি জানতে পেরে জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কমিউটার ট্রেনে তল্লাশির নির্দেশ দেন।পরে এসআই নয়ন চন্দ্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মো. সুরুজ্জামান ট্রেনের সুপারভাইজারের সহায়তায় কালো রঙের ব্যাগটি উদ্ধার করে রেলওয়ে থানার হেফাজতে নেন। পরবর্তীতে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনে জামালপুর এসে আলামিন পরিচয় নিশ্চিত করলে ওসি রবিউল ইসলাম তার কাছে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও ব্যাগটি বুঝিয়ে দেন।

হারানো টাকা ফিরে পেয়ে আবেগঘন কণ্ঠে আলামিন বলেন,ট্রেনে হারানো টাকা আবার ফিরে পাবো, কখনো ভাবিনি। পুলিশ ভাইয়েরা আমার অনেক বড় উপকার করেছেন। এই টাকা আমার অনেক কষ্টের উপার্জন। মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। টাকা না পেলে আমার অনেক বড় ক্ষতি হতো।”

এ বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “মানুষ বিপদে পড়েই থানায় আসে। তাদের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। হারিয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কর্তব্য। একজন শ্রমজীবী মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।এই ঘটনায় জামালপুর রেলওয়ে থানার মানবিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।