নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্
মো:ফজলু মিয়া বিভাগীয় প্রতিনিধি সিলেট।
নেই কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা, চলছে যে যার মতো। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ভেতরের পরিবেশ আধুনিক ও মনোরম হলেও, প্রবেশমুখের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। অফিসের সামনের জায়গা ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ টিনের ছাপড়া ঘর ও যত্রতত্র দোকানপাট গড়ে ওঠায় একদিকে যেমন অফিসের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের জনদুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় থেকে এই অবৈধ দখল উচ্ছেদের স্পষ্ট লিখিত নির্দেশ দেওয়ার পরও দুই মাস পার হয়ে গেলেও ‘অদৃশ্য কারণে’ আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।১৯ blanket ২২ সালে কমলগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু রয়েছে। বর্তমানে জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অধীনে থাকা এই অফিস ভবনটির ভেতরে ফুলের বাগান, দলিল লেখকদের জন্য দুটি টিনশেড ঘর এবং একটি পুকুরসহ দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ করে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
কিন্তু অফিসের ঠিক সামনেই গড়ে উঠেছে পান-সিগারেট, চা, শাকসবজি, ফলমূল ও শুঁটকির অসংখ্য অবৈধ দোকান। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই বাজারের সমস্ত ময়লা-আবর্জনা সরাসরি অফিসের পুকুরে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
অফিসের সামনের মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ওপর অফিসের প্রবেশমুখে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা যত্রতত্র পার্কিং করার ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই নৈরাজ্য চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ০৯ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে কমলগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য একটি লিখিত আবেদন করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (রেভিনিউ মুন্সিখানা শাখা) স্মারক নম্বর: ০৫.৪৬.৫৮০০.০১৫.০১.০০৭.২৪-২৮৯ মূলে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। উক্ত আদেশের অনুলিপি জ্ঞাতার্থে ও কার্যার্থে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সহকারী কমিশনার (ভূমি কমলগঞ্জ) এবং জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনারকেও (গোপনীয়) পাঠানো হয়। কিন্তু আদেশের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও উচ্ছেদ অভিযান আলোর মুখ দেখেনি। কমলগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি: আমি নিজ উদ্যোগে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং আশপাশের পরিবেশের সৌন্দর্য বজায় রাখতে ডিসি মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।ভানুগাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সহ সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন: আমি এই লিখিত অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে কাগজ থাকলে তা দেখে মন্তব্য করব। কমলগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার ফয়সাল আহমদ: কয়েকদিন আগে এসিল্যান্ড সাহেব আমার মোবাইলে লিখিত কাগজটি পাঠিয়েছেন। আমি দেখেছি। এসিল্যান্ড ও ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলাপ করে সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তাভাবনা চলছে। কমলগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ: ইউএনও সাহেবের কাছ থেকে মোবাইলে লিখিত কাগজ পেয়েছি। সব বিষয় বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মৌলভীবাজার উক্ত জায়গার খতিয়ান নম্বর কত? জায়গাটি সরকারি হলে আমরা অবশ্যই দেখব, আর ব্যক্তি মালিকানাধীন হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষকে কোর্টে যেতে হবে।সহকারী কমিশনার (গোপনীয়) মৌলভীবাজার: কাগজপত্রগুলো আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান: "লিখিত নির্দেশনা আমি পেয়েছি এবং সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসিল্যান্ড সাহেবকে লিখিত নির্দেশ দিয়ে ফাইল পাঠিয়েছি।
লিখিত আদেশ চালাচালি এবং কর্মকর্তাদের ‘দেখছি-দেখব’ আশ্বাসের বেড়াজালে আটকে আছে জনস্বার্থ। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রবেশমুখ এভাবে অবরুদ্ধ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা অনতিবিলম্বে এই অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অফিসের সামনে যানজটমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।