নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সাথে প্রতিদিন
কেন্দুয়ায় নবজাতক শিশুকে ছুড়ে ফেলে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আটক ১
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউরা ইউনিয়নের তেতুলিয়া কৈজানী নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এক নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মিয়া (৬০) কে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৭ মে ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে গিয়ালী খাল সংলগ্ন নির্জন এলাকায়। ভুক্তভোগী মোছা. আনোয়ারা (২৪) সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘা ইউনিয়নের নূরনগর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ ও ডিভোর্সের পর আনোয়ারা তার ১ মাস ৭ দিনের নবজাতক সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি মদন উপজেলার নায়েকপুর এলাকা থেকে বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জে ফিরছিলেন। পথে কেন্দুয়ার তেতুলিয়া কৈজানী ঘাটে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।এসময় ঘাটসংলগ্ন দোকানদার আব্দুর রউফ মিয়া তাকে রাতে থেকে সকালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র রামদা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং নবজাতক শিশুকে মায়ের কোল থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।ভুক্তভোগীর চিৎকার ও পাশের এলাকায় মাছ ধরতে থাকা এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে আনোয়ারা দৌড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তা চান। স্থানীয়রা প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তকে আটকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কেন্দুয়া ও মদন থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।