ডিজাইন: ইমেজ চালু
মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

নেত্রকোনা জেলা কৃষি তথ্যমতে, জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ৭৭ হাজার ৩৬৩ কৃষক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।


সাইফুল আলম গজনবী চয়ন। স্টাফ রিপোর্টার সময়ের সাথে প্রতিদিন। 

আগাম বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নেত্রকোণার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ৭৭ হাজার ৩৬৩ কৃষক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। প্রায় ১৬ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানির নিচে চলে যায় ১৮ হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমি। এর মধ্যে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন ধান। আর্থিক হিসাবে যার ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ ২২ হাজার টাকা।

হাওরাঞ্চলেও পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সেখানে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানিতে ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমি তলিয়ে যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ হাজার ৭২৭ হেক্টরের ফসল। ফলে প্রায় ৪৮ হাজার ২৭১ দশমিক ৫০ টন ধান উৎপাদন কমে গেছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। জেলার মোট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হাওর এলাকার কৃষকের সংখ্যা ৩৮ হাজার ২৩৮ জন।খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে পরিচিত নেত্রকোণায় ধান কাটার মৌসুমেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই পানিতে ডুবে থাকা ধান রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শ্রমিকের অভাব পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এর সঙ্গে বাজারে ধানের কম দাম কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে শুরু থেকেই সক্রিয় রয়েছেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক এবং নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রণোদনার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত শ্রমিক সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগ, আর্থিক সহায়তা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রাকিবুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ছিল ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর। মোট উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ টন ধান, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯০ টন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকার প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সহায়ক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।