গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পূর্ব চন্দ্রা এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় ২০০টি অবৈধ টিনশেড ঘর। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট টাকার বিনিময়ে এসব জমি বেচাকেনা করছেন। এতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে ওঠায় তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা।এ এলাকায় আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালালেও অল্প সময়ের মধ্যে আবারও দখল কার্যক্রম শুরু হয়। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করেই এ দখল বাণিজ্য চলছে।সরেজমিন দেখা যায়, নিরাপদ রেল চলাচলের জন্য নির্ধারিত ৩৫০ নম্বর থেকে ৩৬১/১ পিলার পর্যন্ত জায়গাজুড়ে সারিবদ্ধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এসব ঘর। কোথাও নতুন করে টিন বসানো হচ্ছে, কোথাও দরজা-জানালা লাগানো হচ্ছে, আবার অনেক ঘরে এরই মধ্যে বসবাস শুরু হয়েছে। পুরো কার্যক্রমটি চলছে প্রকাশ্যেই।একটি ভিডিওতে এলাকায় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ম্যানেজ করেই সব হচ্ছে, টাকা দিলেই জায়গা পাওয়া যায়।’ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ ফকির, আক্কাস, খলিল ভাঙাড়ি, সাইফুল, চিত্তরঞ্জন ও আবু বক্করসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি দখল, ঘর নির্মাণ এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে অনেকেই একাধিক ঘর নির্মাণ করেছেন।অভিযোগ রয়েছে, ‘রেফাজ ডাক্তার’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে নতুন করে আরও অন্তত ২০টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। একটি কল রেকর্ডে তিনি দাবি করেন, রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নেওয়ার নামে অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সোহেল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ১ লাখ টাকা দিয়ে কাগজ সংগ্রহ করেছি। পাকশি রেল অফিস থেকে এটি আনা হয়েছে। আমি এখানে প্রায় ২০টি ঘর নির্মাণ করেছি।
ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী খলিল বলেন, জিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় জমি নিয়েছি। সরকারি প্রয়োজনে লাগলে ছেড়ে দিতে হবে, তবে ততদিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারব।স্থানীয় আরও কয়েকজন দখলদারও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, টাকা দিয়ে রেলের জমি দখল করে সেখানে বসবাস ও ভাড়া দেওয়ার প্রবণতা এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।এ বিষয়ে রেলওয়ের উপসহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে এবং শিগগির উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।