সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব আকরাম আলী আগে ছিলেন ময়মনসিংহ, সেইখান থেকে রেলওয়ে কন্টেকদারি করেছেন,আই ডাব্লিউ ও পি ডাব্লিউর কাজ সে নিজে করছে এবং কোটি কোটি টাকা লোট করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে যার কারণে থাকে দ্রুত রেলওয়ে প্রশাসন বদলী করেন কুমিল্লা,এই কি সে আকরাম আলী যে অবৈধ টাকা দিয়ে ত্রিশাল জায়গা কিনেছে, অবৈধ টাকা দিয়ে ময়মনসিংহ প্লট কিনেছে, ও বিভিন্ন শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন করে চলছে। ফেনী–লাকসাম–নোয়াখালী রুটে দায়িত্ব পালনরত এক গেটকিপারের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ফেনী সেকশনের গেট নম্বর ই-৪১/সি (কিলোমিটার ১১৭/৩-৪)-এ এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা গেটকিপার মোঃ শফিউল্লাহ নিয়ম অনুযায়ী গেট পরিচালনা করছিলেন। এ সময় কুমিল্লা অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আকরাম আলীর ট্রলি দেখতে পেয়ে তিনি বিধি মেনে গেটের ব্যারিয়ার নামান এবং দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী গেটঘরের ভেতরে থাকা একটি চৌকি দেখতে পেয়ে সেটি অপসারণের নির্দেশ দেন। গেটকিপার শফিউল্লাহ এ বিষয়ে আপত্তি জানালে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয় এবং তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।এ বিষয়ে গেটকিপারদের দাবি, কর্মস্থলের আশেপাশে কোনো আবাসিক সুবিধা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে গেটঘরেই অবস্থান করেন। তিনজনের দায়িত্ব থাকলেও জনবল সংকটে দুইজন কর্মী ১২ ঘণ্টা করে পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টার দায়িত্ব পালন করছেন, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ১৪,৪৫০ টাকা বেতনে কাজ করে আসছেন তারা, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া খাবারের জন্য আশেপাশে কোনো হোটেল বা ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও নেই।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে লেভেল ক্রসিং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১,৮৯০ জন গেটকিপার নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে দুই বছর পর থেকেই শুরু হয় অনিয়মিত বেতন প্রদানের সমস্যা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছর জুলাই থেকে ৬-৮ মাস পর্যন্ত বেতন বন্ধ থাকে; এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯ মাস পর্যন্ত বেতন না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।গেটকিপারদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ বেতন বঞ্চনার কারণে অনেকেই চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। সহকর্মীদের দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন গেটকিপার মৃ/ত্যুবরণ করেছেন, যাদের মধ্যে কেউ স্ট্রোক কিংবা আ/ত্মহ/ত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে গেটকিপারদের ওপর প্রশাসনিক চাপ ও হ/য়রানি বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাতের বেলায় কন্ট্রোল রুম থেকে ফোন দিয়ে তদারকি করা হয়, কোনো কারণে ফোন রিসিভ করতে না পারলে অনুপস্থিত দেখিয়ে শা/স্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভিডিও কলের মাধ্যমে উপস্থিতি যাচাই এবং গেটঘরে ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী অপসারণের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।গেটকিপার ঐক্যবদ্ধ পরিষদ, ফেনী শাখার সমন্বয়ক মোঃ কাউসার জানান,সহকর্মী শফিউল্লাহর সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত অমানবিক। বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মস্থলে থাকার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গেটঘরে চৌকি রাখা হয়েছিল, সেটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য, অনিয়মিত বেতন এবং ন্যূনতম সুযোগ সুবিধার অভাবে গেটকিপাররা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গেটকিপাররা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আগামী সপ্তাহে রেল ভবনের সামনে মানববন্ধন ও ঘেরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী আকরাম আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গেটকিপারদের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বেতন থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ কেটে রাখা হয়, যা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ, রেলওয়ে, কর্মচারী, গেটকিপার