ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

ভূরুঙ্গামারীতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অনিয়মঃ সাংবাদিককে তথ্য দিতে সমাজসেবা কর্মকর্তার অস্বীকৃতি।


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় ১১ জন ভিক্ষুকের মাঝে ১১টি বকনা গরু বিতরণ করা হয়েছে। তবে এই গরু বিতরণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং প্রকৃত ভিক্ষুকদের বাদ দিয়ে সচ্ছল ও অযোগ্য ব্যক্তিদের মাঝে গরু বিতরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারি বরাদ্দ ও উপকারভোগীদের তালিকা চাইতে গেলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তথ্য দিতে অস্বীকার করেন এবং সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিলাই ইউনিয়নে ২টি এবং অন্যান্য ৯টি ইউনিয়নে ১টি করে মোট ১০টি ইউনিয়নে ১১ জন ভিক্ষুককে এই বকনা গাভী গরু দেওয়া হয়। বরাদ্দ ও তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবা কর্মকর্তা তথ্য দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, স্ব স্ব ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা নাম দিয়েছেন এবং ইউএনও মহোদয় তাঁর লোক দিয়ে তা যাচাই-বাছাই করেছেন। এ সময় তিনি এই বিতরণ নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশন করতে নিষেধ করেন। জনগণের টাকায় পরিচালিত সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও বরাদ্দ কেন গোপন রাখা হবে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দীর্ঘ সময় পর কম্পিউটার থেকে একটি নামের তালিকা প্রিন্ট করে দেওয়া হলেও তাতে তিনি স্বাক্ষর ও সীল দিতে অস্বীকৃতি জানান। সন্দেহজনক বিতরণ প্রক্রিয়াঃ গতকালের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অবশিষ্ট দুটি গরুর মধ্যে জয়মনিরহাট ইউনিয়নের শিংঝার গ্রাম থেকে একজন ভিক্ষুক উপস্থিত হয়েছেন। অপরদিকে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ইউপি ভাইস চেয়ারম্যান দীপা খাতুন অন্য একজন ভিক্ষুকের পক্ষে কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তাকে ভিক্ষুকের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান যে ভিক্ষুক আসার কথা থাকলেও বারবার যোগাযোগের পরও আসছে না। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোঁজ নেওয়া হয় এবং তখন পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যান অফিসে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অফিসের কয়েকজন কর্মী আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে গিয়ে প্রয়াত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী জহুরা বেগমকে জোরপূর্বক গাড়িতে করে অফিসে এনে তড়িঘড়ি করে গরু বুঝিয়ে দেন। সরেজমিন অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্যঃ ২৬ অক্টোবর সোমবার ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া গ্রামে সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, উপকারভোগী হিসেবে গরুপাওয়া আজগর আলী আদৌ কোনো ভিক্ষুক নন। তিনি একসময় মিশুক চালক ছিলেন এবং মিশুক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে বর্তমানে বাড়িতে অলস সময় কাটাচ্ছেন। তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুরের মৃত আব্দুল হাই-এর স্ত্রী মমিনা বেগম এবং মৃত মুসলিম উদ্দীনের স্ত্রী জহিরন বেগম একই বাড়িতে বসবাস করেন। জহিরন ও তাঁর ছেলে মিলে প্রায় ৪৫ ফিটের একটি বড় ‘এল’ প্যাটার্ন পাকা বিল্ডিংয়ের মালিক। আর মমিনা বেগম হলেন জহিরনের ছেলের শাশুড়ি, যেনারা একই বিল্ডিংয়ের আলাদা রুমে বসবাস করেন। অর্থাৎ তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অন্যদিকে, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের খামার আন্ধারীঝাড় গ্রামের জহুরা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং মাঝে-মধ্যে অন্যের সাহায্য নিয়ে জীবনযাপন করেন। তবে সময় স্বল্পতার কারণে অন্যান্য ৭টি ইউনিয়নে সরেজমিন খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি সহায়তার সঠিক বাস্তবায়ন ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এই পুরো বিতরণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।