ডিজাইন: ইমেজ চালু
শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

নেএকোনা কেন্দুয়ায় জুলাই শহীদের বোনের শ্লীলতাহানির মামলা: ৯ দিনেও গ্রেপ্তার নেই, নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ।


সালমান আহম্মদ : স্টাফ রিপোর্টার সময়ের সাথে প্রতিদিন। 

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আলী হোসেনের ছোট বোনকে ধর্ষণচেষ্টা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলার ৯ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় বাদী অভিযোগ করেছেন, মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ তাকে ও সাক্ষীদের অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।কেন্দুয়া থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২৯ বছর বয়সী ওই নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন, যা ২০ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি আদালতে পাঠানো হয়।এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর নিজ বাড়ির উঠানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশী রমজান মিয়া (৫০) ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করেন। পরে তাকে জোরপূর্বক ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং গলার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বড় বোন দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩৪১, ৩০৭, ৩২৩, ৩৫৪, ৩৭৯ ও ৩৪২ ধারায় রুজু করা হয়েছে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পেমই তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল আক্তার বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।মামলার সাক্ষী ও জুলাই শহীদ আলী হোসেনের ৭৬ বছর বয়সী মা বেদেনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলে আজ বেঁচে থাকলে আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নির্যাতন কেউ করতে পারত না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।অভিযুক্ত রমজান মিয়া, ফজল হক ও সুমন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের পারিবারিক সূত্র দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ধর্ষণচেষ্টার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।এদিকে বাদীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ তাকে ও সাক্ষীদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।হুমকির অভিযোগে পৃথক কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, "লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।