কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে অনলাইন কাসিনো সম্রাট ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শিপন রহমানসহ (৩৩) চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২:০০টা থেকে বিকেল ৪:০০টা পর্যন্ত উপজেলার দেওয়ানের খামার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ। অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন এবং নগদ ৮৩,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানের খামার এলাকার বিস্তৃত ধানক্ষেত ও সুপারিবাগানে নিয়মিত বসত ইয়াবা ও অনলাইন ক্যাসিনোর আসর। চারপাশে ফাঁকা ধানক্ষেত থাকায় দূর থেকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতিবারই অপরাধীরা পালিয়ে যেত। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে এবং এসআই সাইফুল ইসলাম ও এসআই আল-আমিনের অংশগ্রহণে পুলিশ সদস্যরা সুপারি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশ ধারণ করে কৌশলে অভিযান চালান। প্রথম ধাপে ধানক্ষেত থেকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্যাসিনো ও মাদক সম্রাট শিপন রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে মূল আলামতসহ আটক করে পুলিশ। তথ্যমতে, শিপন রহমান একজন কুখ্যাত ক্যাসিনো ডিলার, যিনি সম্প্রতি একটি অনলাইন ক্যাসিনো ওয়েবসাইটে 'জ্যাকপট' জিতে ১২ লাখ টাকা অবৈধ আয় করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- ভূরুঙ্গামারী উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার মৌজার বাসিন্দা মোঃ শিপন রহমান (৩৩), পিতাঃ তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ শাকিল বাবু (১৯), পিতা- মোঃ মোজাহার আলী, মোঃ হাসিবুল ইসলাম (৩২), পিতা- মোঃ অপু শেখ, মোঃ শাকিল আহম্মেদ (১৬), পিতা- আলম মিয়া। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, "শিপন রহমান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নজরদারিতে ছিল। আজ সহযোগীদেরসহ তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল মাদককারবারি ও অনলাইন জুয়াড়িদের আইনের আওতায় আনা হবে।" গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশোধিত জুয়া আইন-২০২৬ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।